
এস এম সাহান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: ফরিদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এক বিশাল মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্যাসিবাদের চিহ্নিত দোসর হিসেবে পরিচিত আরিফুর রহমান দোলন ও আবুল বাশার খানের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পায়তারা এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মিছিলটি ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইমামুদ্দিন স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্র নেতৃবৃন্দ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব আনিসুর রহমান সজলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন অপকর্ম, সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন ও মামলার চিত্র তুলে ধরেন। তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ জনগণের ওপর যে জুলুম চালিয়েছে, তা এদেশের মানুষ কখনোই ভুলে যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে সেই আমলের সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের পুনরায় রাজনীতিতে পুনর্বাসনের যেকোনো চেষ্টা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, বাংলার মাটিতে আর কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা বলেন, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের নির্বাচনে আনার চেষ্টা ছাত্র-জনতা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বিতর্কিত এই ব্যক্তিদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তারা। একইসঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরিফুর রহমান দোলন ও আবুল বাশার খানকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখার জোর দাবি জানানো হয়।
এছাড়া সমাবেশ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ আদনান হাদীর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বক্তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া বন্ধ করা না হয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতে তারা রাজপথে অবিচল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আর.এম/সকালবেলা